আব্ছা কুয়াসায় ঢাকা দিনগুলি সেই
ঐ তো দেখা যায় স্মৃতির অরণ্য জুড়ে,
অগোছালো শিশু-বই সদৃশ ছিঁড়ে কুঁক্ড়ে
জমে উঠেছে খুলির পশ্চাত গ্রন্থাগারে
–আমারই জীবনের ভোরগুলি।

সেই পশ্চিম পুকুর, পূর্ব পুকুর
নাপিত পুকুর আর ‘তলা শুকায় না দিঘী’
দিঘীর পাড়ের আফিম গাছের ‘কাঁটাবুড়ি’
দক্ষিণে ইটের মুখে ঘাসের দাড়ি গজানো ঘাট্লা
সারি সারি আম্র তরুর ছায়া ঘেঁষে
ঊষার আলোয় কুরআন পড়া মাদ্রাসা।
বৈরাগীদের আমলকী, জলপাই, হরিতকী
আর বহেড়া লুকিয়ে পেড়ে আনা সে দুপুর।
মজুমদারদের হারানো দিনের দালানে
সাঁঝের আলোয় লুকোচুরির হিল্লোল,
বাঁশের বন্দুক আর ‘আঙিলা’ ফুলের বুলেটে
কিশোর ক্ষোভের হিটলারী বৈকালী লড়াই।
জাম্বুরার ঢালে চাউল ভাজার যেয়াফত
পেয়ারার পাতায় পাতায় সেকি ইঁদুর খাওয়া,
শিল্পী, সোহাগ, টিপুদের সাথে সকাল ন’টায়
গোসলের নামে ডুবোডুবি খেলা প্রতিদিন।

তারপর একদিন—-
টিপুরা ভেসে গেল নগরের স্রোতে
সোহাগ হারালো নারিকেল-সুপারি বনে
শিল্পীটা শুধু চল্লো পাশাপাশি
কিছুদিন একসাথে এবং অন্যরা।

আহা! আমার শৈশব-কৈশরের দিনগুলি যে কি, তা
বুঝতে না বুঝতেই একদিন পিছু ফিরে দেখি
সে জীবন চলে গেছে বহুদূর… … … বহুদূর!
ফিরে আসবে না কোনদিন; কখনো,
যৌবনের কথা বলে আর কি হবে
এখন তো জীবন গণিতের ফলাফল
যৌবন বিয়োগ শৈশব-কৈশর সমান এই আমি।

১২ মার্চ ২০০২
মদীনা মুনওয়ারা, সৌদি আরব।

Share