সাইমুম গুলো বহুদূর মরু প্রান্তর পাড়ি দিয়ে দিয়ে
হোঁচট খেয়ে থমকে দাঁড়ায় ওহুদের পাদদেশে;
ওহুদের কাছে,
গড়িয়ে পড়া পাথরকুচির কাছে জানতে চায়
কি হয়েছিল এখানে?
ওরা কারা ঘুমিয়ে জাবালে রামীর কিনারে?

ঢেউ ঢেউ মেঘেরা উঁকি দিয়ে যায়
কি জটলা ওখানে চৌদ্দশতক জুড়ে,
কান পাতে খোরমা খেজুর গাছেরা
বহু বছরের আয়ুতে, সার্থক বেঁচে থাকায়;
আকীক উপত্যকার জলধারা শুকিয়ে গেছে সে-ই ক’বে
এসে তা সঙ্গোপনে প্রবাহমান হয়েছে মুমীনের দু’চোখে।
এ অশ্রু ভালবাসার
এ কাহিনী শৌর্যের
এ ইতিহাস বীরত্বের
এ ময়দান চেতনারা খনি হয়ে আছে হাজার বছর।
জগৎ সংসারে ভাঙ্গন লাগার পূর্বেও বিশ্বাসী
ছুটে আসবে ওহুদের পাদদেশে; চেতনার সঞ্চয়ে
রাসূলের (সা) ভাঙ্গা দাঁত
চির উন্নত শির বেয়ে গড়ানোর রক্তের ফোঁটারা
হামযার চিবানো কলিজা বন্টিত হয় এখানে
অবিকৃত অবয়বের শহীদেরা যেন বলে উঠে:
“হায়! আবার যদি ফিরে যেতে পারতাম ভুবনে
করতাম সফল এ জীবন আল্লাহর পথে কুরবানে…!”
খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে আব্দুল্লাহর লড়াই যদি তুমি দেখতে
তালহার পিঠে আশিটি তীরের প্রাচীর
শুনতে যদি তুমি উমারের হুংকার;
হানজালার লাশকে যখন ফিরিশতারা গোসল দিচ্ছিল
জান্নাতের পবিত্র পানিতে,,,, হে সাইমুম!
তুমি স্তব্ধ হয়ে যেতে আমার এই বুকে!

ইতিহাসের সাক্ষ্য হয়ে পেরেকের মত দাঁড়িয়ে ওহুদ
আল্লাহর পথে ধন ও প্রাণের কুরবানীর প্রতীক
বিশ্ব এসে স্থির হয় এই প্রান্তরে ও পাথুরে কবরে
শাহাদাতের তামান্না ল’য়ে ফিরে দিগন্ত থেকে দিক।

২৫ জুন ২০০৮

মদীনা মুনাওয়ারা, সউদী আরব।

Share