ক’দিন থেকেই আনন্দের উচ্ছাস বয়ে যায়
ঝড়, জল সেখানে তুচ্ছ সীমাহীন
নাগরিক সমাহারে পেয়াদা থেকে রাগবের বসবাস
ঢল নামলে সকলেই ভিজে, বাতাসে জুড়ায় মন;
বলছিলাম, ক’দিন থেকেই একটানা বইছে আনন্দের তুফান।

আকাশের পানে তাকায় আগমনী উদ্বেলিত চোখ
রাস্তায় রাস্তায় যানজট, জনজট, কেনাকাটার আয়োজন
ঘরে ঘরে সুর উঠে- এখন আনন্দ প্রয়োজন
দোকানীর ব্যস্ত-প্রশান্ত তনু-মন; বিক্রয় অঢেল
ক্রেতার জ্বলজ্বলে দু’চোখে ফোটে প্রিয়জনের হাসি
কেউ কেউ দিয়ে আনন্দিত, কেউ বা নিয়ে
আশার প্রদীপে উপছে পড়া তেল; নিবারিত পিপাসা
যেমন বলেছিলাম, ক’দিন থেকেই আনন্দ ছড়িয়ে পথেঘাটে।

সরু সরু থেকে দীঘল মাপের খুশীগুলো ছড়িয়ে পড়ে
ঝলমলে রোদে, মেঘ মেঘ আকাশে, দিগন্ত সুনীলে
বড় রাস্তায়, অলিগলি-দেয়ালের ছায়ায়, জানালার কার্নিশে
উঁচু দালানের সারাটা বুকে, পুরোনো বাড়ীর ভাঙ্গা আগলে
মসজিদের মিনারে, ঈদগাহের নতুন সাজে, আতরের সুবাসে
রাস্তার মোড়ে হুইলে বসা ছেলেটির দু’চোখে, শিশুদের চকলেটে
এক ফালি বাঁকা চাঁদের বুক জুড়ে, নিমন্ত্রণের আবেদনে
অতন্দ্র অগণণ প্রকৃতি-প্রনয়ণে আনন্দের বাঁধ ভাঙ্গে।

আমিও হাসি, হই আন্দিত, বিমোহিত, প্রশান্ত বদন
হাতে হাত মেলাই, বুকে বুক, গলায় গলা।
কি জানি কোন অরণ্য গহীনতা ছিঁড়ে ধেয়ে আসে ক্ষণে ক্ষণে
এক দঙ্গল দীর্ঘশ্বাস!
অন্তর পিশে,,, বুক ভেঙ্গে,,, বাঁ পাঁজরের হাড়গোড় চুরমারি
এক দীর্ঘ স্তব্ধবাহী ব্যথিত বাতাস···
আমি রুখতে পারি না কিছুতেই······!

২৫ অক্টোবর ২০০৬

মদীনা মুনওয়ারা, সউদী আরব।

Share