তখনো জীবনকে জীবন হিসেবে বুঝিনি
বৃষ্টিদিন, দূরের পথ, ফিরে আসা এবং সুসংবাদ
স্বভাবতঃই আমি ভাইপ্রিয় একজন
কিন্তু তোর আগমন সংবাদ দিলেন যে শ্রদ্ধেয়া
তাকে অবচেতন মনের অদ্‌ভুত হাসিটি উপহার দিলাম
জানতে চাইলাম- ‘সত্যি!!!!’
সেই থেকে তুই আমার একমাত্র আদরিণী।

শায়িত দিনগুলোতে মিটিমিটি তারার চাউনি
বসতে পারার বিকেলে ধুলি-মাটির মাখামাখি
তোর পায়ে পায়ে চলার শুরু আর পাক্‌নামো
সবই তো আমার হাতে, কোলে, পিঠে আর বুকে।
অসুখের ভারে যেদিন ঝিমিয়ে পড়েছিলি সেদিন
হারানোর ভয়ে ভীতিময় রাত আমাকে কাঁপায় এখনো
ব্যায়ামের ভোরে পারতাম না তোকে ফাঁকি দিতে
কি যে আনন্দ পেতাম যখন তুই সবাকে দেখাতি
ভাইয়ার ব্যায়ামের কারুকাজে সবাইকে হাসাতি,
প্রতিদিনের বিকেলগুলো হতো তোর আর আমার
লুকোচুরি খেলা, ‘আমি ভাইয়ার সাথে ঘুরতে যাবো’
পায়ে পায়ে চলার দিনগুলো স’বে তো শেষ করলি
কোথায় নিয়ে যাবো, একটু পরেই যে কান্না জুড়ে দিবি
বন্ধুরা বাসায় এলে তোর ভয়ে থাকতো জড়োসড়ো
কি বলে যে করে দিবি তার আক্কেল গুড়ুম···।

বিদায়ের দিনে তুই ছিলি আধঘুমে বিভোর তাই
দূরত্ব ব্যাথা বুঝিস্‌নি সে রাতে, তারপর উড়োজাহাজ
আর তার আওয়াজগুলো তোকে কাঁদাতো প্রতিদিন
আজো কাঁদায়, কাঁদে এ প্রাণও লুকিয়ে-নিরবে।

কোন এক বাদল দিনের শান্ত দুপুরে তুই এসেছিলি
কতগুলো আষাঢ়ে দিন আর শ্রাবন্তী বিকেল পেরুলি
আমি হৃদয়ের মিনতি আকণ্ঠ ভরে দু’হাত তুলেছি
যিনি তোকে পাঠালেন নিরানন্দ-গৃহে আনন্দ করে-
‘তুই বেঁচে থাক, সুন্দর ও সফল বেঁচে থাকায় এবং
অর্জন কর পৃথিবী চষে, অনন্তের পাথেয়- আদরিণী।’

২৮ জুলাই ২০০৬
মদীনা মুনওয়ারা, সৌদি আরব।

Share