দৈবাৎ ঘটে যাওয়া জীবনের ঘটনাগুলোতে আমরা দারুন আশ্চার্যন্বিত হই, পুলকিত হই, সঙ্কিত হই। কিন্তু আমাদের জীবন ধারায় এগুলো ঘটবে; এর কোন বিকল্প নেই। আমরা ভবিষ্যত জানি না, তাই এসবে অগ্রিম কোন সতর্কতারও সুযোগ পাই না। অথবা পাই না অবহেলারও কোনরূপ উপায়। তেমনি ঘটনাগুলো দারুনভাবে রেখাপাত করে আমাদের অন্তরে, চিন্তায় ও বিশ্বাসে।
কখনো তা উন্নীত হয় শিক্ষায় আবার কখনো তা জন্ম দেয় একটি কুসংস্কারের। তারপর ধীরে ধীরে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তিবর্গ, সেখান থেকে সমাজের রন্দ্রে রন্দ্রে ঢুকে পড়ে এক একটি শিক্ষা অথবা কুসংস্কার। এসব মানুষের মনে এমনভাবে গেড়ে বসে যে, ব্যক্তির মন তখন দ্বিধা বিভক্ত হয়ে পড়ে। সাংঘর্ষিক হয়ে উঠে তার নিজস্ব বিশ্বাস ও মনের স্থিতি। বিশ্বাসকে সে দৃঢ় রাখতে চায় কিন্তু দৈবাৎ ঘটা ঘটনা তার মনে অন্য রকম একটা বিশ্বাসের ভিত রচনা করতে তৎপর হয়ে উঠে। এ ক্ষেত্রে কেবলমাত্র দৃঢ়তর বিশ্বাসী ব্যক্তিরাই রক্ষা পেয়ে থাকে। বাদবাকীরা তাদের বিশ্বাস থেকে হয় বিচ্যুত হবে, নয়ত বিভ্রান্তিকর সন্দেহে নিপতিত হবে।
যেমন ধরা যাক, চোখের পাতা ফড়কানো। ব্যাপারটা সত্যিই বিরক্তিকর সন্দেহ নেই। কখনো হয়ত কারুর ক্ষেত্রে ব্যাপারটা ঘটার পর তার খারাপ লেগেছে এবং কুমন্ত্রণাদানকারী হয়ত তার মনে এ কুধারনার সঞ্চার করে দিয়েছে যে, এর দ্বারা হয়ত কোন অকল্যাণ হতে পারে। অথবা দৈবাৎ ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলোর পূর্বে তার বাম/ডান চোখের পাতাগুলো লাফানোর মত বিরক্তকর ব্যাপার ঘটেছে। এতে তার মনে এ ধারণা জন্মেছে যে, এটি বোধ হয় বিপদের পূর্ব সঙ্কেত। ব্যস, ব্যক্তি থেকে বর্গে, বর্গ থেকে সমাজে এবং রীতিমত এসব নিয়ে বাজারে দু’চার টাকায় বইও পাওয়া যায়- “কি করিলে কি হয়” জাতীয়।
মনের জন্য এ এক দারুন পিচ্ছিল পথ, একটু অসতর্ক হলেই বিভ্রান্তির ডোবায় পতিত হওয়া অনিবার্য। এ থেকে উত্তরণ অথবা এতে নিপতন থেকে বাঁচতে হলে জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় বিশুদ্ধ জ্ঞানের বিকল্প নেই। আর বিশ্বাস তো তার ভিত্তিমূল।

৮ আগস্ট ২০০৮
মদীনা মুনাওয়ারা, সউদী আরব।

Share