মদীনার আকাশে মেঘেরা ঘুরোঘুরি করে, নেমে আসে না। তেমনি যেন মনের ধূসর আকাশে কতকথা ভীড় করে আছে, ছুটোছুটি করে এ প্রান্ত থেকে ওপ্রান্ত। আমি তাদের নামিয়ে দেই না কাগজের জমীনে। বৃষ্টি এলে পৃথিবী সিক্ত হয়, আকাশ ভারমুক্ত হয়। অন্তরের কথাগুলো বের করে দিতে পারলে অন্তরগুলো সিক্ত হবে কি না সেকথা লেখকের জানা থাকে না; তবে সিক্ত এবং ভারমুক্ত হওয়ার দু’রকম আনন্দ নেচে উঠে লেখকের মনজুড়ে। লেখক হতে পারিনি, তবে এসব সুখেদের অনুভূতির ছোঁয়া পেয়েছি, তাই বুঝি।
মাঝে মাঝে বেপরোয়া হয়ে উঠি, ভাবি লিখবো প্রতিদিন, অন্তত একটি লেখা। কিন্তু হয়ে উঠে না; এ যেন নিয়তির সাথে বাঁধা কোন পাওনা। কখনো মনে হয়, যাচ্ছেতাই লিখে ফেলবো, যা হবার হবে, লোকে বলবে ‘বাজে লেখা’; বলুক। মাইনাস দিয়ে যাবে? যাক। তবু লিখবো। সেই লেখকের মত যে প্রতিদিন হাজার শব্দ লিখতেন লেখক হবার প্রত্যাশায়। সবকিছুর পরও একই কথা ফিরে ফিরে এসে কানের পর্দা থেকে অন্তরের অন্দরের পর্দায় শব্দের বাতাস হয়ে দুলে উঠছে- “হয়ে উঠে না”।
লেখালেখি এমন একটি ব্যাপার যার সাথে অনুভূতির যোগসাজস প্রবল। কেউ কলম ধরে রাখে না, পূর্বকালের মত হাতের আঙ্গুলও কেটে দেয় না। তথাপি কত বাধাই না পড়ে আছে লেখনীর পথে পথে। আর সেসবগুলোই জুড়ে আছে অনুভবের অতি সূক্ষ্ম বিনা তারের ‘তার’-এর সাথে। ভাবনাগুলো কষ্টে কষ্টে ক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়ে। কখনো কখনো নষ্ট হয়ে যায় পুরোনো ‘ফিতা’র মত। আমি আর দেখতে পাইনা মনের ভিশনে। সবকিছু হয়ে পড়ে ঘোলাটে, বিদঘুটে, ঝাপসা।
মদীনার আকাশে কখনো কখনো মেঘেরা উপছে উঠে, বিদ্যুৎ চমকায়। তখন কিছু কিছু ফোঁটা এসে জুড়িয়ে দেয় ভুবুক্ষ মাটির বুক। তাতে ফসল ফলায় না, স্রোত হয় না, এমনকি জমে উঠে না ঘাটের পানিও; তাতে শুধু আকাশের ভারে স্বল্পতা হয়, জমীনের অশ্রুর সাথে কিছু বৃষ্টি মিশে কান্নাকে আড়াল করা হয়…।

১৩ মে ২০০৯, মদীনা মুনাওয়ারা, সউদি আরব।

Share