লিখতে লিখতে নাকি পেকে উঠে হাত
কলমের কি যে দশা হয় তাতে
সেকথা কি কেউ ভেবে দেখেছে?
সে দেখার ফুরসৎ কোথায়
সে ব্যাথাও কি আছে অনুভবে?
নেই বলেই ‘লেখা’ নিয়ে গবেষণা হয়
বিশ্লেষিত হয় লেখকের মান,
কত কলমের প্রাণ পর্যায়ক্রমিক ভাবে বিসর্জিত হয়েছে
সে আর মূখ্য থাকে না।

সমগ্র পৃথিবী যেন এক খণ্ড কাগজ আর
ভুবন কাগজের বুকে আমরা মানুষ; যেন এক একটি কলম।
কেউ ফাউন্টেন পেন
কেউ বল পেন
কেউ পেন্সিল
রঙপেন্সিল আবার কেউ বা তুলি
খড়িমাটি
ইটের টুকরো মাত্র।
প্রান্তরের পর প্রান্তরকে আমরা দেই জীবন্ত গদ্যরূপ
পদ্যের কোমলতা
পর্যায়ক্রমিকভাবে শেষ হয়ে হয়ে নিক্ষিপ্ত হই
কবর-চিতার আস্তাকুঁড়ে; আমরা মানুষেরা।
পৃথিবী নামক গ্রন্থ তার কলেবর বৃদ্ধি করতে থাকে
আমাদের রক্তের কালিতে
শরীরের কলমে
এবং ধারাবাহিক।

কি পেয়েছি
কি পাচ্ছি এবং
কিইবা পাবো;
ভাবনাগুলো মাঝে মাঝে সবকিছু গুলিয়ে দিয়ে যায়।

নাস্তিক হলে নির্ঘাত পাগল হতাম
আস্তিক বলে এখনো ঘুমুতে পারি নিশ্চিন্তে
খুলির মধ্যে পেঁচিয়ে জড়িয়ে থাকা স্বপ্ন-ভাবনা
আশা-আকাংখা
প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি
ব্যথা-বেদনা এবং
যন্ত্রণার পুরোটুকু দু’চোখ বুঁজে পাঠিয়ে দেই
আমার পরম বিশ্বাসের পরম প্রভুর কাছে;
প্রশান্তি এভাবেই নেমে আসে জীবনে।

ভাবনার সেকাল-একাল মিলিয়ে আজো মনে হয়
নাস্তিক্য জীবন নির্ভরশীল হয় নিজেতেই
জীবন সমস্যার জটিলতা কিংবা ব্যর্থতা
ভুলে থাকে নানা কৌশলে
নয়ত চরমপন্থা অবলম্বন করে নিজের সাথে
মানুষের অন্যের সাথে।

প্রজন্মের পর প্রজন্ম নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছে পৃথিবী গড়তে
অথচ নিজেকে গড়তে
আপন ভবিষ্যত নির্মাণে সে তুলনায় কতটা তৎপর মানুষ;
ভাবনারা মস্তিষ্কের গবেষণাগারে এখনো ইতস্ততঃ ফিরছে।
পৃথিবীতে আমি ভাল থাকতে
স্বজন-প্রিয়জনকে ভাল রাখতে যাকিছু করছি
তা যে প্রকারান্তরে পৃথিবীর জন্যই করা হয়।
প্রয়োজন শুধু সাথে যুক্ত করা ক’টি কথা-
‘অদূর ভবিষ্যৎ’, ‘সুদূর ভবিষ্যৎ’, এবং সর্বোপরি “অনন্তকাল”।

৬ আগষ্ট ২০১০

মদীনা মুনাওয়ারা, সউদি আরব।

Share