অশরিরী বাতাসে ভর করেই যেন
প্রশ্নটা আছড়ে পড়লো
মগজের দক্ষিন বলয়ে
আ-আমি আর এর কি জবাব দেবো
এড়িয়ে যেতে চাইলাম সবিনয়ে…

আচ্ছা, আমরা কি সত্যিই সভ্য?
কিন্তু – কিন্তু পারলাম না
বাঁচতে পারলাম না প্রশ্ন নামক
সে অদৃশ্য চাবুকের কষাঘাত হতে।

দৃষ্টি প্রসারণে যখন পৃথিবীকে দেখি
দেখি-প্রাগৈতিহাসিক অন্ধকার
যুগের ন্যায় আমরা আবার
নেংটি পরতে শুরু করেছি
পাথর যুগ কিংবা তারও আগে পরের মতো
কে কাকে জন্ম দিলাম
কার জরায়ুতে কে জন্মালাম
সে হিসেব যেন গৌণ হতে শুরু করেছে।

আমি দুচোখ বুজে আল-জাবেরের
গাণিতিক সূত্র ভাবতে চেষ্টা করলাম,
কিন্তু ড্রেন, ডষ্টিবিন আর লাশ ঘরের
গলিত পচা অন্ধকার থেকে ভেসে আসা
কচি কন্ঠগুলো তা আর হতে দিল না
পৃথিবী দেখার সমস্ত দরজা জানালা
বন্ধ করে দিলাম!

তবুও একবিংশ শতাব্দির এই প্রভাতে
টাইগ্রীস-ইউফ্রেটিস কুলে…
পামীরের পাদদেশে…
আধুনিক আন্দামান, গুয়ান্টামোর
নিকষ আঁধারে…
সভ্যতার এ কোন উৎসব (?)

হাওয়াই জাহাজের শব্দে শিশুরা
বেরিয়ে এসেছিল আনন্দের উঠোনে
ঐ সুনীল আকাশের উড়ন্ত স্বপ্নীল পাখি দেখবে
পাখি কিশলয় নয়,
ঠোঁটে করে নিয়ে এলো অগি্নগোলক
খুলি আর পাঁজরের হাড়গুলো পাথরের
আড়ালে লুকিয়ে গেলো
ওরা বুঝতে পারেনি কি হলো ? কেন হলো ?
শুধু হারিয়ে গেল নীরবে
পৃথিবীর এ সভ্য(?) অন্ধকার থেকে
কোন এক আলোকিত জগতে…

১ মে ২০০৩, মদীনা মুনাওরা ,সউদী আরব।

Share