মন থেকে মনে বিনা-তারে আলাপন
চোখের আলো নিভে গেলেও মনের আলো থাকে
প্রিয় প্রজন্ম,
দীঘল শীতল রাতের শেষ প্রহরে যখন আমি মাউসের বুতাম চাপি, মজিল্লার ক্যানভাসে চিত্রিত হয় কত নানান উপাখ্যান; আমি শুধু কীবোর্ডে ধ্বনি তুলি আর ওরা পর্দার ওপাশে; আমরা কেউ কাউকে ছুঁতে পারি না। আচ্ছা, তুই কি বলতে পারিস্, মনিটরের কাঁচের ওপাশে থাকা যন্ত্রাংশ কিংবা হৃদয়াংশগুলোর দূরত্ব কত? আমি হিসেব মেলাতে খেই খুঁজে পাই না; “এলসিডি” কত পাতল, অথচ হাজার হাজারের ব্যবধান এটুকুতেই; ঠিক যেন আমাদের অন্তরের ব্যবধান। তুই নিশ্চয়ই আমার লেখাটুকু ছুঁয়ে দেখেছিস; স্পর্শ পেয়েছিস আমার, হই না কেন লক্ষ্য যোজন এপারে। আহাঃ তুই কি বুঝিস্না যে আমিও চাই তোকে ছুঁতে; যেমন করে ছুঁয়ে আছে দুধসাদা কাপড়ের টুকরো বুকের পশমী যমীন। মন আমার উদ্ভ্রান্ত আজ সোবহে সাদিকের কোন এক প্রিয় বিদায়ী কান্নার বিষাদী সুরে। বল্ না, তুই কি টের পেয়েছিস্ তা?
বিগত চিঠিতে বলতে চেয়েছিলাম ‘মনে মনে বিনা তারের আলাপন’ নিয়ে; চকিত দৃষ্টি কেড়ে নিল কথা। মন্দ কি, বেশ কিছু দিন বেশ তো দিলাম নামিয়ে হৃদয়স্পন্দনে অনাকাংখিত নীরবতা। বড্ড খেয়ালী এক রাস্তার পাশে অফিস কক্ষ; যান্ত্রিক শব্দগুলো সব ষড়যন্ত্র করে জাগিয়ে দেয় নিরব করা ঘুম পাড়ানো আমার মনকে। প্রথম প্রাথমিকের কাগুজে ফুলগুলোকে ভাবনায় আনতে পারিনা একদম, বৃষ্টির গড়া উঠোন সাগরে কখনোই পারি না এ মন সিন্দাবাদের কাগুজে-জাহাজ ভাসাতে, পারি কি অষ্টম-নবমের দুয়ারের পাশে বুনা সূর্যমুখীকে দেখতে বলো? সূর্য তো এতদিনে মধ্যগগণ ছুঁই ছুঁই করছে; হায়, কি সম্ভাবনাময় পথচলা, বেঁচে থাকা, উদাসী হাওয়ায় মনের কথাগুলো ছড়িয়ে দেয়া আমাদের। বলতে পারিস্, ওকে, তোকে অথবা তাকে যদি আমি এখন সর্বশক্তি দিয়ে ভাবি; সেও আমায় ভাববে এখন, আমার বিনা তারের ঠুক ঠুক অথবা ধক্ ধক্ কিংবা হৃদয়স্পন্দন কি সে টের পাবে? তুই পাস? তিনি পাবেন? কিংবা তোমরা?
কাল গুনি হাতের চার চারটি কর-এ কর-এ, কখনোই তো বিশ-এর অধিক গুনতে পারি না; লোকে বলে দেড় খানা ইট দিয়ে না কি ইমারত রচিত হয় না, আমি কি তবে ফুরিয়ে গিয়ে তা প্রমাণ করবো অথবা আমাকেই হতে হবে ইতিহাস? কি আশ্চর্য ঘড়ি ঝুলে আছে হাতের কব্জায়, বন্ধ হলে অথবা করলে পৃথিবী থেকে বিচ্ছিন্ন, জগতে অচল, অ-মূল্য, নিংড়ানো আবর্জনা; চলতে হলে জগতের নিয়মেই ফিরে আসতে হবে। তাই কি পেয়েছি অনিয়ম-ঊশৃংখল পুষে, হৃদয়-মস্তিষ্ক-দেহের খড়কুটো সব খাওয়ালাম; এক পেয়ালা দুধ দিলে না কখনো, দিলে না একটি বাছুর। জঙ ধরা অধাতুকে তাই অকেজো থেকে কেজোর দলে আসতে হলে কামারের ঘরে জ্বলেপুড়ে অবশেষে ফিরে আসতেই হয় ধাতবের মূলত্বে; জগতের প্রচলনে। প্রচলিত মনকে এখনো বুঝাই, ওরা কেউ হীনকে নিয়ে ভাবে না; হেন অকারণ কেনই বা করিস্ আত্মবিলীন? সে বলে, এই তো বেঁচে থাকার অবলম্বন- “ওরাও আমায় মনে করে, আমারে মনে পড়ে”; এ নির্যাস এখন প্রতিটি জীবিত দিনের প্রদীপে কেরোসিন।
তোকেও বলবো না- “মনে রাখিস্”; বলবো- ভাল থাকিস্।
তোরই-
“ফএমু”
২২.০১.২০০৭, মদীনা মুনওয়ারা, সৌদি আরব।
চোখের আলো নিভে গেলেও মনের আলো থাকে
প্রিয় প্রজন্ম,
ক’দিন থেকে একটা ভাবনা আমায় ক্রমাগত দোল খাইয়ে যাচ্ছে, আচ্ছা বল্তো, তোর ভাল থাকা কি আমি টের পাই, অথবা আমার ভাল থাকা তুই? মানুষের মন থেকে মনে মনে কি বিনা তারের কোন যোগাযোগ ব্যবস্থা রেখেছেন সৃষ্টিকর্তা? এমনিতে তো মনকে বার্তা পাঠায় আমাদের ইন্দ্রিয়গুলো, তারপর মন সে বার্তাকে পাঠিয়ে দেয় মস্তিষ্কের হেডকোয়ার্টারে এবং সেখান থেকে সিল-ছপ্পর এঁটে তা সিদ্ধান্ত হিসেবে বিতরিত হয় হাত-পা-মুখের মত যন্ত্রপাতিগুলোয়। কিন্তু আমি বলছিলাম মনবার্তা আর মনের কথা।
তার আগে আরেকটা ব্যাপার বলে নেই, ধর, তুই কোথাও বসে আছিস, আর এক জোড়া আকুল অথবা ব্যাকুল কিংবা গভীর চোখ তোকে দেখছে তো দেখছেই। কিন্তু সে দৃষ্টির তীব্রতায় তুই যেন আর টিকতে পারছিস্ না, তাই যেন হুট করেই ফিরে তাকালি সেই চোখ দু’টোর দিকে, আর দেখছিস সেই জোড়া ভ্রূ তোর দিকেই অধীর দৃষ্টি পাতিছে। কি, হয়নি কখনো এমনটি? চোখের আলো আছে কি নেই তা নিয়ে অতীত বিজ্ঞানীরা অনেক ঝগড়াবিবাদ শেষে সিদ্ধান্ত নিলেন যে, আলো নেই; শুধু বস্তু আলোকিত হলে কিংবা বস্তুর আলোতেই চোখ দেখতে পায়। ওরা একে অপরের চুল-দাড়ী শতাব্দিব্যাপী ছিঁড়ছে ছিঁড়ুক, কিন্তু খেয়াল করেছিস্, হঠাৎ কখনো রাস্তার বাঁকে অথবা স্টেশনে অথবা চায়ের দোকানে অথবা তোদের পার্টিতে, হঠাৎই আধহালি নয়না তোকে দেখল, কি আশ্চর্য অমনি তুইও ফিরে তাকিয়ে পূর্ণ করে দিলি এক হালি, কি আশ্চর্য! কি আশ্চর্য! তাইতো আমি ভাবি এখনো, এই “ঝলকানি”টা তাহলে কি?
কি জানি, তোদের চিকিৎসা বিজ্ঞান এখন কতদূর পেঁৗছেছে, ছড়া দু’টোর অাঁটি খুঁজে পেলে পোষ্ট করে পাঠিয়ে দিস্ কিন্তু।
কি নিয়ে যেন বকাবুলি করছিলাম? ওহ্ হাঁ, মনে মনে যদি এতদূর -এ জাতীয় কিছু, তাই না? এই শোন্ শোন্, আকাশে এখন অনেক তারা, আর আমি আমার অফিস কক্ষে একাকী, বৈদু্যতিক বাতির নিঝুম কনকনে অাঁধারে দারুন শৈত্যাক্রান্ত, আর কিছু বলতে চাইছে না মন আমার এখন। দেখ, এখনো জানতে চাওয়াই হলো না- তুইও কি ভাল আছিস আমার মত, কষ্টের কাঁথা মুড়ি দিয়ে, নিরবে, বিজনে আর একরাশ বানানো বিরহে?
তোর-
‘ফএমু’।
১৪.০১.২০০৭, মদীনা মুনওয়ারা, সৌদি আরব।


০ জন অতিথি মতামত দিয়েছেন " প্রিয় প্রজন্ম! " লেখাটিতে
comment rss যুক্ত করুন অথবা Trackback করুন।লেখাটি সম্পর্কে মতামত রাখুন