ল্যাম্পপোষ্ট টানা তারের কঠোরতায় হেলান দিয়ে
কোমল গালের একপাশ ঠেকিয়ে তাকিয়ে আছে বালকটি
ময়লা পড়া উদোম গায়ের মাঝামাঝি দুর্বোধ্য রঙের
কাপড়ী আবরণে ঢাকা তার সমস্ত লজ্জা।
চক্ষুলজ্জা নামক শব্দটি শুনেছে সে,অনুভব করেনি কখনো
শরমেরে এতদিনে চিনতে পেরেছে সে,পায়নি লজ্জার পরিচয়
দু’বেলার দু’মুঠো অন্নই তার কাছে সবচেয়ে সুন্দর সজ্জা।

পাতায় পাতায় পড়ে আছে আস্তরিত ধুলোবালি, অথচ
চোখ দু’টো তার কি দারুন স্বচ্ছ,সে দেখতে জানে
কেবলি স্বচ্ছতা, দুঃসময়ী বাতাসের ঝাপটা পড়ে চোখে-মুখে।
কত ঝাপটাই না বয়ে গেছে বুঝ পাওয়া সময়ের ক’টি দিনে
বাবা-মার চলে যাওয়ার নিঠুরতা আর জাগতিক শূন্যতায়
প্রতিটি দিনরাতের ক্ষুদাতুর পেটের জ্বালা-যন্ত্রণায়,
ঝড়োয়া রাতবিরাতে বিদ্যুৎ চমক আর হাড়কাঁপানো শীতে
ঐশ্বর্য্যের নির্মম হাতে খাওয়া ভিক্ষার বদলে ধিক্কার পরে ধাক্কায়,
হরতালীয় পিকেটিং-এর দিনে ইট-পাটকেল আর
লাঠি-বৈঠা-বন্দুকের ফাঁক-ফোঁকরে ক’টি টাকা এবং কিছু খাবার
সাপপেটা কায়দায় মানুষ হন্তারকেদের কৃত দুঃস্বপ্নের ঘোরে,
আগুন জ্বলা বস্তির দাউ দাউ শিখা শিহরনে;
বাবা-মার কবরে অজস্র অজানা সময় ধরে
অশ্রুর পর অশ্রুতে অশ্রুতে সিক্ত মাটির ব্যথিত গন্ধে
রাতীয় অন্ধকারে ঘুমভাঙ্গা ভয়ে,একটি মায়াময় হাতের
একটু স্নেহছোঁয়ার সুতীব্র আকাঙ্খায় আকাঙ্খায়
সময়ের সকল ভগ্নাংশ স্থবির এখন দু’চোখের মণিতে।

অসহায় বালক বুঝে না সাম্যবাদ,বুঝে না ধনতন্ত্র
বুঝে না গণতন্ত্র,একনায়ক অথবা দালালতন্ত্র,
সে জানে সে মুসলিম,জানে না কি ইসলাম,কি তার দেনা
কি সমূহ অধিকার সঞ্চিত পাওনাতে?
সে জানে একমুঠো ভাত,এক প্রস্থ কাপড়
মাথা গোঁজার ঠাঁই,একটু আদর
এস’বি তার ন্যায্য অধিকার মানুষের কাছে।

অতৃপ্ত আত্মারা জেগে উঠো এই বঞ্চিত সময়ে
শিশুমন থেকে পক্ক হৃদয়ের অজস্র বেদনে
কি অধিকার দিয়েছে তোমায় স্রষ্টা চির মহান
আদায়ের পথে প্রতিষ্ঠা কর স্রষ্টার মহাদান
এসেছে ইসলাম জগতে উচ্চে তুলিতে মজলুমে
সাম্য,শান্তি,সত্য বিলাতে অশান্ত ধরাধামে।

২৫ এপ্রিল ২০০৭
মদীনা মুনওয়ারা, সৌদি আরব।

Share