দিকভ্রান্ত পথিকের মত পৃথিবীটা পিছু নিয়েছে
বলি তারে: ছেড়ে দে আমার পিছু।
কারণে অকারনে জুড়ে দেয় কর্মের ঠেলাগাড়ী
ঘানি টেনে চলি প্রাণান্ত সমাপনের পানে
যেখানে নিঃশেষিত হয় জীবন।
আমি তো একদিন পথে নেমেছিলাম
কিছু মালাঠোলা জড়ো করে
এক বৃষ্টিভেজা শৈশবী দিনে,
কচুপাতার চাউনীতে রচনা করেছি সংসার
লিঙ্গানুভূতিহীন শিশুদের সমাহারে।
সেদিনের সে সংসার ভেঙ্গে দিতে পেরেছি
মিছেমিছি ভোজনের পরে,
আজ শুধু বারে বারে হেরে যাচ্ছি
পেরে উঠছি না কিছুতেই, কোনভাবে
তছনছ করে দিতে এই খেলাঘর।
রক্তচোষা জোঁকের মত লহু পান করছি একে অন্যের
প্রয়োজনে অথবা তুচ্ছতার অতলান্তে গিয়ে
রাঙিয়ে নিচ্ছি দু’হাত, দু’চোখ আর ধারালো অস্ত্র।
রসের উপছে পড়া উত্তেজনায় মাথা কেটে যায় প্রিয়জনের
আলঠেলা ঝগড়ায় শুয়ে পড়ে সারি সারি নিস্পন্দিত দেহ,
ক্ষমতার নেশায় বুঁদ হওয়া নেতার চারপাশে কফিন
কাফনের ভেতর থেকে উঁকি দিয়ে তিরস্কারের হাসি হাসছে আত্মারা।
বিশ্বকসাইদের হাউজে হাউজে বসেছে ‘জীবন’এর জুয়া খেলা
কে কত খুলির সঞ্চয়ী; সে হিসেবে নির্ণিত কসাই মোড়ল।
আর পেরে উঠছি না হে ভূগোলক!
দয়া করে যেতে দে আমায় একাকী; ঐ দূর সীমানায়
যেথা অপেক্ষমান পিতা আদমের সংসার,
আমি যে মিশে যেতে চাই হাবিলের পথ ধরে
আমার চিরদিনের শান্তিময় সংসারে…!
১৩ নভেম্বর ২০০৮
মদীনা মুনাওয়ারা, সউদী আরব।